Blog

নিত্যদিনের সুপার ফুড -চিয়া সীড

আচ্ছা বলুন তো এমন কোন খাবার রয়েছে যাতে মাত্র এক আউন্সে (২৮ গ্রাম) প্রায় ১৩৭ ক্যালরি পাওয়া যায়? চিয়া সীড হল বর্তমান সময়ের খুব অল্প কিছু সুপারফুড গুলোর একটি যা দুনিয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সাধারণত পুষ্টিগুণে ঠাসা উদ্ভিজ্জ খাদ্যবস্তু যেগুলো মানব শরীর এবং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপযোগী, তাদের বলা হয় সুপারফুড; চিয়া বীজ হল এমনি একটি সুপারফুড। এটি মূলত একধরনের শস্য দানা। চিয়া সীডের আদি নিবাস মেক্সিকোতে হলেও ক্যালিফোর্নিয়া এবং ব্রিটেনে এটি বেশ জনপ্রিয়। মরুভূমির সালভিয়া হপ্পনিকা ( এটা উদ্ভিদ শ্রেনীর নাম) শ্রেণীর উদ্ভিদ থেকে চিয়া সীড এসেছে। চিয়া সীডের স্বাদ অনেকটা পুদিনা পাতার কাছাকাছি। চিয়া সীড সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে একটির বর্ণ কালো অন্যটি বর্ণ শ্বেত। ছোট আকৃতির এই বীজের খাদ্যমান এবং পুষ্টি উপাদান বেশ উচ্চমাত্রার।

চিয়া সীডে রয়েছে ওমেগা-৩ জাতীয় ফ্যাটি অ্যাসিড যে কারণে এটি হার্টের পক্ষে খুব ভালো। এটি আমাদের রক্তে HDL cholesterol বাড়ায় যা আমাদের শরীরের জন্য ভালো। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে রয়েছে প্রোটিন ও ফাইবার, রয়েছে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামও। এক আউন্স চিয়া সীডে রয়েছে প্রায় ১১ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৮.৫ গ্রাম ফ্যাট, ১৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট (যার মধ্যে ১১ গ্রাম হল ফাইবার)। দৈনিক এক আউন্স চিয়া সীড খেলে ১৮% কালসিয়ামের চাহিদা, ২৭% ফসফরাসের চাহিদা এবং ৩০% ম্যাঙ্গানিজের চাহিদা পূরণ হতে পারে।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান গুলি পর্যাপ্ত পরিমাণে খাই না, সেক্ষেত্রে এই চিয়া সীড আমাদের জন্যে খুবই উপকারী। চিয়া সীডের সবচেয়ে ভাল দিক হল আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন খাবারের সাথে একে যোগ করে এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। আপনি এটি সালাদ বা জুসের সাথে যোগ করতে পারেন। ওটস এর সাথে যোগ করে খেয়ে নিতে পারেন সকালের নাস্তায়। তবে রান্না সরাসরি যোগ না করার ভাল। বরং আপনি চাইলে রান্না করা পছন্দের খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন সুপার ফুড চিয়া সীড।

আসুন এক নজরে দেখে নেই চিয়া সীডের উপকারগুলো সম্পর্কে :
👉 ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধঃ
চিয়া সীডে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। আপনি জেনে অবাক হবেন চিয়া সীডে স্যামন মাছের চেয়েও বেশি ওমেগা-৩ বিদ্যমান।

👉 উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধঃ
চিয়া সীডে রয়েছে যথাযথ পরিমাণে প্রোটিন। ওজনের দিক থেকে, এর ১৪% প্রোটিন, যা অন্যান্য উদ্ভিদের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়াও এতে সুষমভাবে দরকারী কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড আছে, যার ফলে শরীর ঐ প্রোটিনগুলো কাজে লাগাতে পারে। প্রোটিন স্বাস্থ্যের জন্য সবদিক থেকে উপকারী। ওজন কমানোর দিক দিয়ে এটি অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চেয়ে অনেক এগিয়ে! হাই-প্রোটিন যুক্ত খাবার ক্ষুধা কমায়। দেখা গেছে এতে খাবারের প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ প্রায় ৬০% কমায় ও রাতের বেলায় টুকটাক খাবার ইচ্ছা ৫০% কমায়।

👉 হাড়ের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাঃ
চিয়া সীডে আছে বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান যা হাড়ের জন্য খুব উপকারী। এতে আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম আর প্রোটিন। ক্যালসিয়ামের পরিমাণটা বেশ চমকপ্রদ, প্রতি আউন্সে ১৮% RDA। অধিকাংশ দুগ্ধজাত প্রোডাক্টের চেয়ে বেশি এটা! যারা দুগ্ধজাত প্রোডাক্ট পছন্দ করেন না তাদের জন্য চিয়া সীডে ক্যালসিয়ামের খুব ভাল উৎস।

👉 রক্তের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করেঃ
চিয়া সীড রক্তের কিছু উপাদানের উন্নতি সাধন করে, এতে হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যেহেতু চিয়া সীডে ফাইবার, প্রোটিন ও ওমেগা-৩ প্রচুর পরিমাণে আছে, তাই এটি মেটাবোলিক হেলথকে উন্নত করে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসে।

👉 উচ্চমাত্রার এন্টিঅক্সিডেন্ট এর উপস্থিতিঃ
চিয়া সিডের আরেকটি চমৎকার দিক হল এতে থাকা উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের উপস্থিতি। এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলো বীজে বিদ্যমান সেনসিটিভ ফ্যাটকে পচে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। সাপ্লিমেন্ট থেকে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট নেওয়া খুব একটা ফলপ্রসু না হলেও খাদ্য থেকে নেওয়া অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট স্বাস্থ্যে ভাল প্রভাব ফেলে। এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ও দেহের অভ্যন্তরীণ কোষ রক্ষণাবেক্ষণে বেশ উপকারি ৷ চিয়া সীডে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের স্পর্শকাতর ফ্যাট রক্ষা করে। তাছাড়া ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ এবং কোষ গুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে

👉 ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ
চিয়া সীড আপনার ডায়েট চার্টের জন্য যথা উপযুক্ত একটি খাবার৷ কারন চিয়া সীড আপনি যে খাবারের সাথে মিশিয়ে গ্রহণ করুন না কেন, পেটে যাবার পর তা ফুলতে শুরু করে এবং যার ফলে আপনার পেট ভরে যায়। ফলে ক্ষুধা কমে যায় এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করার প্রবনতা অনেকটা হ্রাস পায়।সেই সাথে ভালো, চিয়া সীড খাবার হজমে বেশ সহায়তাকারী।

👉 উচ্চমাত্রার ফাইবার এর উপস্থিতিঃ
চিয়া সীডের কার্বোহাইড্রেটের প্রায় সবটুকুই ফাইবার। এতে এর ‘ওয়েইট ইন ওয়াটারের’ ১০-১২ গুণ বেশি শোষণ করার ক্ষমতা থাকে। ফাইবার স্বাস্থ্যের জন্য নানান দিক থেকে উপকারী।

চিয়া সীড মানবদেহের জন্য সবদিক থেকেই খুবই উপকারী। আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ সহ বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য চিয়া সীড কাজ করে থাকে। তাই বলা যায়, শুধু শরীর সুস্থ রাখতে এবং সৌন্দর্য বজায় রাখতে চিয়া সীডের ভূমিকা অসামান্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *